মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

পর্যটন ও ঐতিহ্য

 

মহামায়া সেচ প্রকল্প : মীরসরাই উপজেলার ৮ নং দুর্গাপুর ইউনিয়নে ঐতিহ্যবাহী মহামায়া সেচ প্রকল্প ও পর্যটন কেন্দ্র অবস্থিত। এই প্রকল্পের মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে মহামায়া ছড়ার উভয় পাশে সেচ সুবিধা প্রদান ও বর্ষা মৌসুমে প্রকল্প এলাকায় জলাবদ্ধতা সমস্যার নিরসন করা এর উদ্দেশ্য। এছাড়া প্রসত্মাবিত ড্যামের পাদদেশে একটি পাওয়ার হাউস স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করাও প্রকল্পের আরেকটি উদ্দেশ্য। বর্তমানে মহামায়া সেচ প্রকল্পের প্রাকৃতিক, নৈস্বর্গীক মনোরম দৃশ্যের কারণে এখানে প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটকের আগমনের ফলে এটি একটি পর্যটন এলাকা হিসাবে চট্টগ্রাম জেলায়  পরিচিতি লাভ করেছে।

 

ধুমের শিলাপাথর :

মীরসরাই’র উত্তর পশ্চিম দিকে ফেনী নদীর নিকটে ধুম গ্রামে এক প্রাচীন শিলালিপি আছে। শান্তিরহাট বাজারের অতি নিকটে রাস্তার পাশে এই শিলাপাথরটি মাটির গভীরে পর্যন্ত অবস্থান করছে।এই পাথরের গায়ে উৎকীর্ণ শিলালিপি থেকে এখানে পাঁচ হাজার বছরের পুরানো আর্য সভ্যতা বিকাশের প্রমাণ পাওয়া যায়।

 

শুভপুর ব্রীজ :

ফেনী নদীর উপর ১৯৫০ এর দশকে নির্মিত হয় এ অঞ্চনের দীর্ঘতম সেতু। তৎকালীন যুক্তফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী আতাউর রহমান খান শুভপুর ব্রীজ উদ্ভোধন করেন।১৯৭১ সালে ২৬ মার্চ সকালে পাকিস্তান সৈন্যরা এই সেতুটি দখল করে নেন। পরে ২৯ মার্চ বাঙালি ইপিআর, আর্মি মিলিতভাবে সেতুটি দখল করে নেন। এতে ৭ জন পাকিস্তানি সৈন্য ও ৩ জন বাঙালি সৈন্য নিহত হন।

 

মহুরী সেচ প্রকল্প :

মীরসরাই’র ৬নং ইছাখালী ইউনিয়ন ও সোনাগাজী সীমান্তবর্তী এলাকায় ফেনী নদীতে বাঁধ দিয়ে ১৯৭৮-১৯৮৯ অর্থবছরে এই সেচ প্রকল্প শুরু হয়। এই প্রকল্পের বহুমূখী সুফলের মধ্যে প্রথমত কয়েক হাজার জমি সেচের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। ব্যাপক নদী ভাঙন রোধ হয়েছে। বহু মৎস খামার এবং অনেক বানাঞ্চল গড়ে উঠেছে।

 

পরাগলপুর :

মীরসরাই উপজেলার ৩নং জোরারগঞ্জ ইউনিয়নে পরাগলপুর মৌজা বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম পুরাতন মহাসড়কের পশ্চিম পাশে অবস্থিত। যা একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে সুপরিচিত। পনের শতকের শেষ দশক থেকে ষোল শতকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত পরাগলপুরকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের প্রশাসনিক কেন্দ্র স্থাপিত হয়। গৌড়ের সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ ও তাৎপুত্র নসরৎ শাহের শাসনামলে চট্টগ্রামের রাজধানীর মর্যাদা লাভ করে পরাগলপুর, যা লস্করপুর নামে পরিচিতি লাভ করে।